চারজনকে হ/ত্যার পর গোসল করে খেজুর খান দুই হত্যাকারী
রংপুরে চারজনের নির্মম হত্যাকাণ্ড: মাদকাসক্তির ছায়ায় স্তব্ধ এক পরিবার
*নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:*
রংপুরে একটি পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ও গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জেলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, তাঁদের মাস্টার্সপড়ুয়া মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছোট ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একটি হাসিখুশি পরিবারকে নিঃশেষ করে দেওয়ার এই ঘটনা নগরবাসীকে স্তম্ভিত করেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন ভোররাতে পাশের একটি বাড়ির ছাদ টপকে অভিযুক্ত দুজন গণপতি চক্রবর্তীদের বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে। সেখানে তারা মাদক সেবন করছিল বলে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে। এ সময় গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাদের দেখতে পান। তাঁকে দেখে ফেলায় নিজেদের মাদক সেবনের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কা থেকে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।
অভিযোগ রয়েছে, ছাদেই গামছা ব্যবহার করে শ্বাসরোধে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি টের পেয়ে তাঁর স্ত্রী ছাদে গেলে তাকেও একই কায়দায় হত্যা করা হয়।
এরপর শব্দ শুনে বড় মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ছাদে গেলে তাকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে শ্বাসরোধের পর তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার এই পর্যায়টি হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পরবর্তীতে অভিযুক্তরা ঘরে গিয়ে পরিবারের ছোট ছেলে, জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়ম চক্রবর্তীকেও হত্যা করে বলে পুলিশের দাবি। প্রথমে কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা এবং পরে বালিশ চাপা দিয়ে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, প্রিয়ম অভিযুক্তদের চিনত এবং তাদের পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে খেলাধুলা করত। পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই শিশুটিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযুক্তরা জানিয়েছে।
# হত্যার পরও ঘাতকদের স্বাভাবিক আচরণ
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলেই কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এমনকি তারা নিহতদের ব্যবহৃত একটি কক্ষে থাকা ওয়াশরুমে গোসল করে এবং পরে খাবার খেয়ে সেখানে অবস্থান করে। পুলিশের দাবি, তাদের কাছে থাকা মাদকও তারা সেখানে সেবন করে।
পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। পরে চুরি করা সামগ্রী একটি মন্দিরের পেছনে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বাইরে মানুষের চলাচল তুলনামূলক কমে গেলে অভিযুক্তরা ছাদ টপকে পাশের বাড়ির দিক দিয়ে পালিয়ে যায় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
No comments